বরষার প্রথম দিনে
HomeStoriesবরষার প্রথম দিনে

বরষার প্রথম দিনে

বাঙ্গালীর মত বৃষ্টিকে এত রোমান্টিক ভাবে অন্য কোনো জাতি দেখে কিনা জানি না। আকাশ যখন ছোট বেলার চক দিয়ে লেখার স্লেটের মত কালো হয়ে আসে তখন থেকেই কেমন আদর আদর লাগা শুরু হয়। ছুটির দিন হলে প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়ার আগেই তড়িঘড়ি করে দুমুঠ চাল আর ডাল উনুনে চাপিয়ে দিয়ে যাওয়া হয় ব্যালকনিতে। সাথে যদি একটু দুধ চা হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। আমাদের সকল কিছুই কেমন করে জানি পেটের সাথে জুড়ে যায়। বৃষ্টি হলে একটু চা একটু চানাচুর না কোনো একটা ভাজাপোড়া নাইলে ল্যাটকা খিচুড়ি।

বাঙ্গালীর মত বৃষ্টিকে এত রোমান্টিক ভাবে অন্য কোনো জাতি দেখে কিনা জানি না।

আকাশ যখন ছোট বেলার চক দিয়ে লেখার স্লেটের মত কালো হয়ে আসে তখন থেকেই কেমন আদর আদর লাগা শুরু হয়। ছুটির দিন হলে প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়ার আগেই তড়িঘড়ি করে দুমুঠো চাল আর ডাল উনুনে চাপিয়ে দিয়ে যাওয়া হয় ব্যালকনিতে। ব্যালকনিতে একটা ইজিচেয়ার আর সাথে যদি একটু দুধ চা হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। হয়ত ল্যাপটপে একটা গান ছেড়ে দেয় "আমার রাত জাগা তারা"। অন্তহীন এর মত বর্ষাকে এত সুন্দর আর কোন মুভিতে দেখা গেছে বলুন তো? আর, আমাদের বাঙ্গালীদের সকল কিছুই কেমন করে জানি পেটের সাথে জুড়ে যায়। তেমনি, বৃষ্টি হলেই একটু চা একটু চানাচুর না কোনো একটা ভাজাপোড়া নাইলে ল্যাটকা খিচুড়ি।

শহুরে ব্যালকনিতে টানা বারান্দা বা দাওয়ার মত আরাম পাওয়া যায় না। তবু গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে শহরের কত মানুষ দু হাত বাড়িয়ে দেয় বৃষ্টির ছোঁয়া গায়ে লাগাবে বলে। ছাদে বারান্দায় শুকাতে দেয়া কাপড় তোলার ব্যতিব্যস্ততা, গাছ গুলো একটু বৃষ্টি পাবে বলে আরো একটু কিনারার দিকে এগিয়ে দেওয়া, অথবা একটা চেয়ার টেনে বসে ঝমঝম করে যাওয়া শব্দ শোনা। বাসার ছাদে গিয়ে চুপটি করে ভেজা অথবা ফাঁকা রাস্তায় গলিতে ভিজতে ভিজতে হাঁটা। গ্রামে হলে টিনের চালের শব্দ, চাল দিয়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ধার মাটির উঠোনে যে গর্ত করে তার শব্দ। সাথী থাকলে এই বৃষ্টি কাদার মধ্যে ফুটবল খেলা।

খুব রসকষহীন কাঠখোট্টা মানুষও বুঝি এই সময়ে একটু নরম হয়ে যায়। হয়ত একটু নস্টালজিক হয়। আমি জানি না কার কি মনে পরে , আমার মনে পড়ে মেডিকেল এর হলে থাকতে গুণে গুণে প্রত্যেকটা বৃষ্টিতে ভিজতাম, বন্ধু বান্ধব সহ হাঁটতে হাঁটতে শহীদ মিনার ,জগন্নাথহল ফুলার রোড পার হয়ে পলাশী দিয়ে টুক করে বুয়েটের আর্কির চিপা হয়ে আবার বকশী বাজারের গেট দিয়ে ঢুকে যেতাম।কখনো দোয়েল চত্ত্বর বা টিএসসি এসে ঝুম বৃষ্টিতে চা খাওয়া হত। আবার কখনো লুকিয়ে হলের ছাদে গিয়ে ভিজিতাম। নাই কোনো মানা, কোনো শাসন বারণ। শুধু 'ইচ্ছে পূরণ' এর আনন্দ।

এরম বর্ষা স্বাধীন লাগে। একটু আরাম লাগে। একটু উদাস লাগে।